সিসি ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন ১নং ইস্পানী রোডস্থ ৪৮/৫ নং বাড়িতে এ সিন্ডিকেট শনাক্ত করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, মোবাইল ফোনসেট, একটি ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সিন্ডিকেটের অন্যতম দু’ হোতা রূপসার জাবুসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেশমা খাতুন এবং সিংহের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসী আফরোজকে আটক করেছে পুলিশ। এ সিন্ডিকেটে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছে আটককৃতরা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার কনক কান্তি জানান, শুক্রবার খুলনার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি জালিয়াত সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ ধরনের একটি সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার খবর গোপন সূত্রে পেয়ে শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন ১নং ইস্পানী রোডস্থ ৪৮/৫ নং মেহেদি হাসান বাবুলের উত্তর পাশে বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটটি প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেন খানের স্ত্রী রূপসার জাবুসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেশমা খাতুন কিছুদিন আগে ভাড়া নেন। একই ফ্ল্যাটে তার ভাগ্নী সিংহের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসী আফরোজও থাকত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত শিক্ষিকা ফেরদৌসী আফরোজ জানান, কিছুদিন আগে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্সের মালিক আবুল হাসান তাকে জানান, আবুল হাসানের একজন আত্মীয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বড় কর্মকর্তা। জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা করে দিলে সে নিয়োগ পাইয়ে দেবে। আবুল হাসানের বড় ভাই মুহিবুর রহমানও তার সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। এরপর তিনি (ফেরদৌসী আফরোজ) এবং রেশমা খাতুন ২৫ জন নিয়োগ প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিয়োগ প্রার্থীরা তাদের প্রত্যেকের প্রবেশপত্রের ফটোকপি, তাদের নামে ক্রয়কৃত ৩০০ টাকা মূল্যের ২৫ সেট স্ট্যাম্প প্রদান করেন। এর মধ্যে চারজন পাঁচটি ব্যাংকের সই করা ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেন। রেশমা খাতুনের নামে আরেক প্রার্থী মাহিরা আক্তারও অগ্রণী ব্যাংক ক্লে রোড শাখার ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
এ চক্রটি কীভাবে প্রতারণা করছিল- এ প্রশ্নের উত্তরে এসি ডিবি জানান, এই ২৫ প্রার্থীকে প্রতারকরা নির্দিষ্ট ২৫টি মোবাইল ফোনসেট প্রদান করে। শুক্রবার নগরীর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, জিলা স্কুল, মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আযম খান কমার্স কলেজ, সরকারি সুন্দরবন কলেজ, পাইওনিয়ার গার্লস কলেজ ও বয়রা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র পরিদর্শকদের দৃষ্টি এড়িয়ে মোবাইলগুলো নিয়ে হলে প্রবেশ করে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজন পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই কৌশলে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তার উত্তর আটককৃতদের মাধ্যমে মেসেজ করে পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
আটককৃত শিক্ষিকা রেশমা খাতুন দাবি করেন, তারা কেন্দ্র পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই ম্যানেজ করেন। এ সিন্ডিকেটে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। নিয়োগ প্রার্থীরা রূপালী ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সই করা ব্ল্যাংক চেক এবং স্ট্যাম্প প্রদান করেছেন। চাকরি হলে জনপ্রতি সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে সিন্ডিকেটের অন্যতমদের দেওয়ার কথা ছিল। এ চক্রকে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
নগর গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুরেশ চন্দ্র হালদার জানান, আটককৃতদের ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের আটক করতে অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উৎস: রাইজিংবিডি